বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
সোহাগকান্ডে উত্তাল ফুটবল অঙ্গন। কাজী সালাউদ্দিনের পায়ের নিচের মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। সোহাগের কীর্তি ফাঁস হওয়ার আগেই সালাউদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাহী কমিটির প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছিলেন আরিফ হোসেন মুন। নীলফামারী জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির অভিযোগ ছিল জেলার ফুটবলের প্রতি একেবারেই নজর দেন না বাফুফে সভাপতি। কাজ করার পরিবেশ নেই বলেই তার সরে যাওয়া।
মুনের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে ক্রীড়াঙ্গনে ফোরাম হিসেবে পরিচিত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ। একই সঙ্গে বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে ‘জেলার লোক’ হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে পরিষদের রবিবারের সভায়।
কাজী সালাউদ্দিন এই মেয়াদের দায়িত্বে নিয়ে জেলার দায়িত্ব নিজের জিম্মায় রেখে দেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জেলার ফুটবল চাঙ্গা করার। তবে কথার সঙ্গে তার কাজের মিল পাওয়া যায়নি। জেলার ফুটবল রীতিমতো থমকে গেছে। কোনো অর্থ সহায়তা দূরে থাক, ডেকে একটু খোঁজ-খবর করার প্রয়োজন মনে করেননি বাফুফে সভাপতি। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ফোরামে। তাছাড়া সোহাগের জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সালাউদ্দিনে অনাস্থা বেড়েছে তৃণমূলের সংগঠকদের। অনেক এজেন্ডার রবিবারের সভায় ফুটবল নিয়েই হয়েছে বেশি আলোচনা।
সভা শেষে ফোরাম সভাপতি আজম নাসির বলেছেন, ‘ফুটবলের সাম্প্রতিক বিষয় ও আমাদের অবস্থান তুলে ধরতে শিগগরই সাংবাদ সম্মেলন করব।’
ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, ‘বাফুফে থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করা আরিফ হোসেন মুনের কাছে পদত্যাগের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ তার সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের সংগঠনের সমর্থনে যারা বাফুফেতে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের পদত্যাগ করতে বলা হবে। তারা আমাদের আহ্বানে সাড়া না দিলে তারা কোনো ফেডারেশনের নির্বাচনে আমাদের সমর্থন পাবেন না। তাদের পদত্যাগ করতে বলার কারণ জেলার ফুটবলটা থমকে গেছে। বাফুফে কোনো খোঁজ-খবরই করে না। আমাদের প্রতিনিধিরাও কথা বলার সুযোগ পান না। ফলে সেখানে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
মুন ছাড়াও বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের সমর্থনে ২০২০ নির্বাচনে নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন সিলেটের মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, খুলনার সাইফুল ইসলাম ও নোয়াখালীর ওয়াদুদ পিন্টু। গতকাল সেলিম ও সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
সেলিম বলেন, ‘আমি কাজ করার জন্য বাফুফেতে নির্বাচন করেছি। বাফুফের কোনো সহযোগিতা আমি পাইনি। নিজের প্রচেষ্টায় চেষ্টা করছি সিলেটের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে। আর পদত্যাগের আহ্বানের সিদ্ধান্তটি এখনো আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সবার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।’
সাইফুল ইসলাম অবশ্য পদত্যাগেই সমাধান দেখছেন না, ‘পরিষদের সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তাই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত নই। আমার মতো একজন সাধারণ সদস্যের পদত্যাগে কোনো কিছু সমাধান হবে না। বাফুফেতে এখন যা ঘটছে তা গোটা জাতির জন্য লজ্জার। সোহাগ একা অনিয়ম-জালিয়াতি করেনি। এর পেছনে আরও অনেকেই জড়িত। ওপরের দিকে যারা এসবের হোতা তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। ২ মে বাফুফের নির্বাহী সভা আছে। আমি আমার দিক থেকে এসব বিষয় নিয়ে কথা তুলব। এরপর পরিষদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।’
অভিযোগ আছে, নিজেদের আধিপত্য নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে অযোগ্য ব্যক্তিদের বড় বড় পদে নিয়ে আসে ফোরাম। সেই ধারা থেকে বের হয়ে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নেতৃত্ব যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।